ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় আলোচিত ধর্ষণ মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মো. জয়নাল আবেদিন সজীবকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ধর্ষণ মামলার বাদী ও ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী মো. রুবেল। এদিকে মামলার এজাহার এবং পুলিশি তদন্তেও সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ না পাওয়ার পরও সজীবকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩০ জুন ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে উপজেলার মাওলানাকান্দি এলাকায়। ঘটনার পরদিনই তজুমদ্দিন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদিন সজীবসহ দুইজনকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার বাদী মো. রুবেল এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও সজীবকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার ২ নম্বর সাক্ষী জামাল মাঝি বলেন, ঘটনার সময় সজীব ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তারাও ঘটনার সাথে জয়নাল আবেদিন সজীবের কোনো সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি।
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহব্বত আলী খান বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। জয়নাল আবেদিন সজীব এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে যে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক।
তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা মিন্টু বলেন, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আমরা দল থেকে বহিষ্কার করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছি। কিন্তু একজন নির্দোষ ছাত্রনেতাকে বহিষ্কার করাটা দুঃখজনক। আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও বলেছে সজীব জড়িত নয়। আমাদের অনুরোধ, নিরপেক্ষ তদন্ত করে সজীবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হোক।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মশিউর রহমান মামুন বলেন, এ মামলার বাদী ও ধর্ষণের শিকার নারী সরাসরি উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতির কাছে জানিয়েছেন যে সজীব নির্দোষ। শুধুমাত্র গুজবের ভিত্তিতে বহিষ্কার করাটা কতটা ন্যায় সংগত?
Leave a Reply