পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও নতুন জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ক্যাপস্টোন কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
গতকাল দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের হল রুমে ক্যাপস্টোন ফেলোদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সেনাপ্রধান।
এই কোর্সে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সিনিয়র চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ক্যাপস্টোন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি জাতিগঠনের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৌশলগত নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে আরো কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য গতিশীল ও সংস্কারমুখী নেতৃত্বের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। ক্যাপস্টোন কোর্সের মাধ্যমে সৃষ্ট সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এর মাধ্যমে ফেলোগণ পেশাগত ও জাতীয় জীবনে দীর্ঘস্থায়ী অবদান রাখবেন। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোকপাত করে সেনাপ্রধান বলেন, বিদ্যমান পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও নতুন জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ক্যাপস্টোন কোর্স কৌশলগত অন্তর্দৃষ্টি, সহযোগিতা ও জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন এনডিসি কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। তিনি বলেন, ক্যাপস্টোন কোর্স জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, বস্তুনিষ্ঠ সংলাপ ও একীভূত চিন্তাধারা বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্যাপস্টোন কোর্সে অংশগ্রহণকারী ফেলোগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ; বাংলাদেশের কৌশলগত নেতৃত্বের মধ্য শক্তিশালী সেতুবন্ধ তৈরি করেছে এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব বিকাশের জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের লক্ষ্যকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফেলোগণের সক্রিয়, চিন্তাশীল ও সশ্রদ্ধ অংশগ্রহণ তাদের কৌশলগত ও মননশীল চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটিয়েছে এবং বিভিন্ন সংস্থার নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের মেলবন্ধন তৈরি করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
ক্যাপস্টোন কোর্স ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ পরিচালিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কোর্স; যার লক্ষ্য কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, সূক্ষ্ম চিন্তাভাবনার বিকাশ, আন্তঃসংস্থার সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার নেতৃত্ব পর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নবিষয়ক সমন্বিত ধারণা গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সশস্ত্রবাহিনী ও সরকারি বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির ফ্যাকাল্টি ও স্টাফ অফিসারবৃন্দ এবং জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
মাইলস্টোনে উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি : রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের প্রশংসনীয় অবদানের জন্য সম্মাননা (প্রশংসাপত্র) দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল সেনাসদরে তাদের সম্মাননা দেন তিনি।
আইএসপিআর জানিয়েছে, বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতিতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অন্যান্য স্টাফদের উদ্ধারকার্যক্রমে সেনাসদস্যদের সাহসিকতা ও মানবিক আচরণ সেনাবাহিনীর পেশাগত মানদণ্ডের প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে সব সেনাসদস্যের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
Leave a Reply