আল-আজহারের আঙিনা আজ যেন এক আধ্যাত্মিক বাগিচা। বাতাসে ভাসছিল দরূদ ও সালামের সুর, আর হৃদয়গুলো ভিজে উঠছিল নবীপ্রেমের অমলিন অশ্রুতে। বুধবার বিকেলের সোনালি আলোতে নবীর সা. জন্মবার্ষিকী উদযাপন করতে সমবেত হয়েছিলেন আলেম-উলামা, রাজনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাজ্ঞ অধ্যাপক এবং সাধারণ মানুষ। যেন গোটা কায়রো একসঙ্গে নবীর সা. স্মরণে মগ্ন হয়ে উঠেছিল।
এ মাহেন্দ্রক্ষণটির পেছনে ছিলেন আল-আজহারের মহামান্য শায়খ, অধ্যাপক আহমদ আল-তাইয়েবের পৃষ্ঠপোষকতা। প্রাঙ্গণ ভরে উঠেছিল সম্মানিত অতিথিদের উপস্থিতিতে—আল-আজহারের উপ-শায়খ মুহাম্মদ আদ-দাওয়াইনি, উসামা আল-আযহারি, নাজির আইয়াদ, কায়রোর গভর্নর ইবরাহিম সাবির, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালামা দাউদ, সাবেক উপাচার্য ইবরাহিম আল-হুদহুদ এবং ইসলামী গবেষণা পরিষদের সদস্য আবদুল ফাত্তাহ আল-আওয়ারি। মুহূর্তটি ছিল জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ভক্তির এক মহামিলনমেলা।
আবদুল ফাত্তাহ আল-আওয়ারি তার আবেগময় বক্তব্যে নবীর সা. জন্মকে আখ্যা দিলেন উম্মাহর জন্য নতুন সূর্যোদয় হিসেবে। তার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হলো এক গভীর সত্য—এ উদযাপন কেবল উৎসব নয়, বরং নবীর সা. বার্তায় অটল থাকার অঙ্গীকার। আনন্দ প্রকাশও এখানে রূপ নিয়েছে এক মহৎ ইবাদতে, যা মানুষকে নবীর সা. শিক্ষা—দয়া, শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
ইবরাহিম আল-হুদহুদ তার হৃদয়স্পর্শী বক্তব্যে নবীর সা. দয়ার সর্বজনীনতা তুলে ধরলেন। তিনি বললেন, নবীর সা. দয়া কেবল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা ছড়িয়ে পড়েছিল প্রাণী, জিন এমনকি জড় জগতেও। এই দয়ার উত্তরাধিকারেই উম্মাহকে বলা হয় ‘দয়ার উম্মাহ’—কারণ তাদের নবী সা. ছিলেন দয়ার প্রতিমূর্তি। নবীর সা. স্মরণে আনন্দ প্রকাশ তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতার স্বীকারোক্তি।
অনুষ্ঠানটির পরিসমাপ্তি ঘটল আবেগঘন মুনাজাত ও হৃদয় কাঁপানো সঙ্গীতে। প্রাঙ্গণজুড়ে তখন এক অদৃশ্য আলোর আবরণ, মানুষের চোখে অশ্রু, ঠোঁটে নবীর সা. নাম এবং অন্তরে অগাধ প্রেমের ঢেউ। আল-আজহারের এই আধ্যাত্মিক মুহূর্ত সরাসরি ছড়িয়ে পড়ল মিশরীয় টেলিভিশন, কুরআন রেডিও এবং সামাজিক মাধ্যমে, যেন নবীর সা. জন্মোৎসবের এই পবিত্র আনন্দ পৌঁছে যায় প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি হৃদয়ে।
লেখক ও কলামিস্ট
শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর
Leave a Reply