২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ-হাসনাত ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ-হাসনাত – ajkalbd24.com
  1. admin@ajkalbd24.com : admin : H.M Aslam
  2. akazadjm@gmail.com : A K Azad : A K Azad
  3. ajkalbd24.com@gmail.com : ajkalbd24 : Niaz Mohammad
  4. hafijakhan804@gmail.com : ajkal1 : ajkal1
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন

২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ-হাসনাত

আজকাল ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৩৮ সময় দর্শন

কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন—জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার এমন মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে পৃথকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহ।

গতকাল শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে তারা ব্যক্তিগতভাবে অর্থ নিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থকে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা ভুল ও বিভ্রান্তিকর। উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, জাতীয় বাজেট পাস হওয়া মানে যেমন সরকারপ্রধান সেই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে পান না, তেমনি উন্নয়ন বরাদ্দও ব্যক্তিগত অর্থ নয়।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বাজেটের একটি অংশ ‘বিশেষ বরাদ্দ’ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দেওয়া হয়, যা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা বা সচিবের অনুমোদনে প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হয়।

এই অর্থ জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত হয়। বরাদ্দের পর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ করে থাকে।

তিনি দাবি করেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্যে রাজস্ব খাত ও বিশেষ বরাদ্দ খাতকে এক করে ফেলা হয়েছে, যা সঠিক নয়। তার ভাষায়, আলোচিত অর্থ জেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ই-টেন্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে।

কার্যবিবরণীর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের মধ্যে ছিল সোলার লাইট স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ক্রয় এবং মসজিদ সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ।

অন্যদিকে একই ঘটনায় সরাসরি ব্যাখ্যা চান হাসনাত আব্দুল্লাহ। জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে তার একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ফোনালাপে হাসনাত জানতে চান, তার বিরুদ্ধে ‘টাকা খাওয়ার’ অভিযোগ সত্য কি না। জবাবে প্রশাসক বলেন, রাজস্ব ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে তার উপজেলায় ১০ কোটি টাকা এবং আসিফ মাহমুদের এলাকায় ১৫ কোটি টাকা উন্নয়ন বরাদ্দ গেছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের ‘টাকা খাওয়ার’ কথা তিনি বলেননি; বরং উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের কথাই উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহও দাবি করেন, এই অর্থ ব্যক্তিগত নয়; বরং এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ বলেন, বরাদ্দ দেওয়া এবং ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক তার বক্তব্য আরও স্পষ্ট করবেন, নাহলে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়াতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।

শেষে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া গ্রহণ বা প্রচার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সব তথ্য প্রকাশ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর