মেহেরপুরের গাংনীতে দুইটি বোমা সদৃশ্য বন্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই এলাকার বিএনপির প্রার্থীর ব্যানারের নীচে ওই বন্তুগুলো উদ্ধার করা হয়।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ষোলটাকা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুনের বাড়ি সংলগ্ন জগত নামের এক ব্যক্তির দোকানের পাশ থেকে বোমা সদৃশ্য বস্তু দুইটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে ষোলটাকা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুন বলেন, ‘তার বাড়ি সংলগ্ন জগতের চায়ের দোকানের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেনের একটি ব্যানার রয়েছে। সেই ব্যানারের নিচ থেকে লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো বোমা সদৃশ্য বস্তু দুইটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে সেগুলো উদ্ধার করে পানি ভর্তি বালতিতে রেখে নিস্ক্রিয় করেছে পুলিশ।
এদিকে ষোলটাকা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, ‘গাংনী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ষোলটাকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনিসহ আমতৈল মানিকদিয়া ও কেশবনগর এই তিন গ্রামের বিএনপি ও সাধারণ লোকজন জগতের চায়ের দোকানে বসেন। সেখান থেকেই এই তিন গ্রামের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা করা হয়। ওই দোকানের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেনের একটি ব্যানার রয়েছে। সেই ব্যানারের নিচে কে বা কারা লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো বোমা সদৃশ্য দুইটি বস্তু রেখে যায়।’
বিএনপি নেতাকর্মীদের হুমকি ধামকি ভয়ভীতি দেখানোর জন্য একটি চক্র বোমা সদৃশ্য ওই দুইটি বস্তু রেখে যেতে পারে। তাই তিনি প্রশাসনের কাছে তদন্ত করে বোমা সাদৃশ্য বস্তু রাখার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
গাংনী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ষোলটাকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘আমতৈল গ্রামের মৃত মফেজেলের ছেলে জগতের দোকানের চেয়ার টেবিল রয়েছে, সেখানে বিএনপিসহ গ্রামের সাধারণ মানুষ বসে চা পান করাসহ রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা ও গল্পগুজব করে। আমতৈলসহ পার্শবর্তী গ্রাম সমূহে সকল দলের শান্তিপূর্ন বসবাস রয়েছে। এলাকায় বিশৃংঙ্খলা করার জন্য কেউ বোমা সদৃশ্য বস্তুগুলো রেখে যেতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করলে জড়িতদের সনাক্ত করা যাবে।’
তবে নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সহকারী রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বোমা সদৃশ্য বস্তুগুলো রাখার ঘটনায় অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিএনপির প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার কিছু নেই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দ্রুত জড়িতদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
Leave a Reply