রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার জীবন শেষ হলো পদ্মায় বাসডুবিতে রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার জীবন শেষ হলো পদ্মায় বাসডুবিতে – ajkalbd24.com
  1. admin@ajkalbd24.com : admin : H.M Aslam
  2. akazadjm@gmail.com : A K Azad : A K Azad
  3. ajkalbd24.com@gmail.com : ajkalbd24 : Niaz Mohammad
  4. hafijakhan804@gmail.com : ajkal1 : ajkal1
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার জীবন শেষ হলো পদ্মায় বাসডুবিতে

আজকাল ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৭০ সময় দর্শন

২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমার জীবনের লড়াই শেষ পর্যন্ত থেমে গেল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ঢাকা ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে অন্যদের সঙ্গে নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে নিহতদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত অন্যরা হলেন—নাসিমার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমান।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে নাসিমা তার ভাগনি, ভাগনি জামাই ও শিশুকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে বাসে রওনা হন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ভাগনি জামাই আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্য তিনজন নিখোঁজ থাকেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মর্মান্তিক এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নিহতদের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি আবারও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফায় এই দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

নাসিমা বেগমের জীবনের গল্পটি ছিল লড়াই আর সংগ্রামের। ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসের সময় তিনি ওই ভবনে কর্মরত ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে থাকার পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন গ্রামে থাকলেও স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই যাত্রাই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন। মৃত্যু আর ভাগ্য বিড়ম্বনার এমন সমাপতন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর